মেয়েরাও কি পর্নোগ্রাফি আসক্ত হচ্ছেন? বাংলাদেশি গবেষণায় উঠে এলো যা

Top 10
Top 10


 

বাংলাদেশে নারীদের পর্নোগ্রাফি দেখার প্রবণতা: গবেষণায় কী জানা যায়


বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন কনটেন্ট মানুষের কাছে সহজলভ্য হয়েছে। এর মধ্যে পর্নোগ্রাফি নিয়েও বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। তবে একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করা জরুরি—২০০০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের মেয়েরা কত শতাংশ পর্নোগ্রাফি দেখেছে, এমন ধারাবাহিক জাতীয় পরিসংখ্যান নেই। তাই বিভিন্ন বছরের জন্য অনুমান করে শতাংশ প্রকাশ করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক হবে না।


বাংলাদেশে পাওয়া গবেষণাগুলো মূলত শিক্ষার্থী ও তরুণদের নির্দিষ্ট নমুনার ওপর করা হয়েছে। ফলে এসব ফলাফলকে দেশের সব নারী বা সব মেয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রয়োগ করা যায় না।


২০১৭ সালের গবেষণায় কী পাওয়া যায়?


খুলনা শহরের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০৪ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়েছিল। এতে ২০০ জন পুরুষ এবং ১০৪ জন নারী শিক্ষার্থী অংশ নেন। গবেষণাটির বিষয় ছিল শিক্ষার্থীদের পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শে আসা এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়।


এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিকে বাংলাদেশের সব মেয়ের পর্নোগ্রাফি দেখার জাতীয় হার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।


২০১৮ সালের বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১৩ জন স্নাতক শিক্ষার্থীকে নিয়ে আরেকটি গবেষণা করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৭২ শতাংশ জীবনে অন্তত একবার পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শে এসেছিল। গবেষণায় পুরুষ হওয়া পর্নোগ্রাফি ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাসকারী বিষয় হিসেবে পাওয়া যায়। একই গবেষণায় বলা হয়, নারী শিক্ষার্থীরা সাধারণত পুরুষ শিক্ষার্থীদের তুলনায় পরে প্রথমবার এ ধরনের কনটেন্টের সংস্পর্শে এসেছিল।


এখানেও ৭২ শতাংশকে “বাংলাদেশের মেয়েদের হার” বলা যাবে না। এটি ছিল নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মোট হার।


২০২২ সালের গবেষণায় নতুন চিত্র


কোভিড-১৯ মহামারির তৃতীয় ঢেউয়ের সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার ৬৪৬ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি অনলাইন গবেষণা করা হয়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ৭৫.৯ শতাংশ গত দুই মাসে পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শে আসার কথা জানিয়েছিল। অংশগ্রহণকারীদের ৭২ শতাংশ ছিল পুরুষ।


গবেষণায় পর্নোগ্রাফি দেখার ধরনেও নারী-পুরুষের পার্থক্য পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট একটি শ্রেণির পর্নোগ্রাফি দেখার ক্ষেত্রে দর্শকদের ৭৬.৪ শতাংশ ছিল পুরুষ এবং ২৩.৬ শতাংশ ছিল নারী। তবে এই ২৩.৬ শতাংশকে “বাংলাদেশের ২৩.৬ শতাংশ মেয়ে পর্ন দেখে” বলা যাবে না। এটি শুধু ওই গবেষণায় নির্দিষ্ট কনটেন্ট দেখেছে এমন অংশগ্রহণকারীদের লিঙ্গভিত্তিক বণ্টন।


তাহলে কি বাংলাদেশি মেয়েরাও দেখে?


গবেষণাগুলো থেকে বলা যায়, হ্যাঁ, কিছু বাংলাদেশি নারী শিক্ষার্থী পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শে এসেছে বা দেখার কথা জানিয়েছে। তবে পুরুষ শিক্ষার্থীদের তুলনায় নারীদের ব্যবহার সাধারণত কম পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালের একটি বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণাতেও পুরুষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনলাইন পর্নোগ্রাফি ব্যবহারের হার নারীদের তুলনায় বেশি ছিল।


২০০০ থেকে ২০২৬ সালের ধারাবাহিক হিসাব কেন নেই?


২০০০, ২০০৫, ২০১০, ২০১৫, ২০২০, ২০২৫ ও ২০২৬—প্রতিটি বছরের জন্য বাংলাদেশের নারীদের আলাদা করে পর্নোগ্রাফি দেখার জাতীয় জরিপ করা হয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না।


তাই কোনো প্রতিবেদনে যদি এমনভাবে লেখা হয় যে “২০০০ সালে X শতাংশ, ২০১০ সালে Y শতাংশ এবং ২০২৬ সালে Z শতাংশ বাংলাদেশি মেয়ে পর্নোগ্রাফি দেখছে”, তাহলে সেই সংখ্যাগুলোর উৎস যাচাই করা জরুরি। গবেষণার প্রমাণ ছাড়া এমন সংখ্যা প্রকাশ করলে পাঠক বিভ্রান্ত হতে পারেন।


গবেষণার মূল শিক্ষা


বাংলাদেশে পর্নোগ্রাফি নিয়ে গবেষণা এখনো সীমিত। যেসব গবেষণা হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই শিক্ষার্থী বা তরুণদের নির্দিষ্ট নমুনার ওপর। গবেষণাগুলো থেকে পুরুষদের মধ্যে ব্যবহার তুলনামূলক বেশি এবং নারীদের মধ্যেও কিছু ব্যবহারকারীর উপস্থিতি পাওয়া যায়। তবে বাংলাদেশের সব মেয়ের মধ্যে কত শতাংশ এই ধরনের কনটেন্ট দেখে—এমন নির্ভরযোগ্য জাতীয় সংখ্যা বর্তমানে বলা যায় না।


তাই সবচেয়ে সত্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত হলো: বাংলাদেশি নারীদের মধ্যেও পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শের প্রমাণ গবেষণায় পাওয়া গেছে, কিন্তু ২০০০–২০২৬ সালের বছরভিত্তিক নারী-নির্দিষ্ট জাতীয় হার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।


তথ্যসূত্র


বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত গবেষণা: International Journal of Mental Health and Addiction এবং Frontiers in Public Health।

এই পোস্টগুলি আপনার ভাল লাগতে পারে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন